বর্তমান সময়ে অনেকেই নিজের হারাম সম্পর্ক, ব্যভিচার বা অবৈধ যৌ*ন কর্মকাণ্ডকে সমাজ, পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ বলে, “সমাজ সুযোগ দেয়নি”, কেউ বলে “বিয়ে করতে পারিনি”, আবার কেউ দোষ দেয় চারপাশের অশ্লীল পরিবেশকে।
কিন্তু ইসলাম এই বিষয়ে কী বলে?
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের আমলের জন্য দায়ী
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> “কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না।” — (সূরা আল-আনআম: ১৬৪)
অর্থাৎ সমাজের খারাপ অবস্থা, মানুষের আচরণ কিংবা পরিবেশ কোনো ব্যক্তির গুনাহকে বৈধ করে দেয় না। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।
যৌ*ন চাহিদা স্বাভাবিক, কিন্তু হারাম পথে পূরণ করা হারাম
ইসলাম মানুষের যৌ*ন চাহিদাকে অস্বীকার করেনি। বরং এটিকে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই ইসলাম বিয়েকে সহজ করেছে এবং পবিত্রতার পথ দেখিয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “হে যুবক সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ।” — (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
অর্থাৎ সমাধান হলো আত্মসংযম, তাকওয়া ও বৈধ পথ অনুসরণ করা; হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নয়।
সমাজের দায় কতটুকু?
সমাজ অবশ্যই কিছুটা দায়ী, যদি—
বিয়েকে অযথা কঠিন করে তোলে
অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা ছড়িয়ে দেয়
তরুণ-তরুণীদের জন্য দ্বীনি পরিবেশ তৈরি না করে
যৌতুক, অতিরিক্ত খরচ ও কুসংস্কারের কারণে বিয়েতে বাধা সৃষ্টি করে
এসব কারণে সমাজ গুনাহের পরিবেশ তৈরির অংশীদার হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে—
সমাজের গুনাহ এক জিনিস, আর ব্যক্তির নিজের গুনাহ আরেক জিনিস।
সমাজ খারাপ হলেও একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহকে ভয় করা এবং নিজেকে হারাম থেকে বাঁচানো।
পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে”—এ অজুহাত কি গ্রহণযোগ্য?
না।
কারণ পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ আছে যারা একই পরিবেশে থেকেও নিজেদের পবিত্র রেখেছে। যারা আল্লাহর ভয়ে হারাম সম্পর্ক, প*র্নো”গ্রা”ফি, ব্যভিচার ও অন্যান্য অবৈধ কাজে জড়ায়নি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন।” — (সূরা আত-তালাক: ২)
নিজেকে বাঁচানোর কিছু উপায়
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া
দৃষ্টি সংযত রাখা
অশ্লীল কনটেন্ট ও হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা
বেশি বেশি রোজা রাখা
দ্রুত ও সহজভাবে বিয়ের চেষ্টা করা
আল্লাহর কাছে সাহায্য ও হেদায়েত চাওয়া
ভালো বন্ধু ও দ্বীনি পরিবেশ বেছে নেওয়া
শেষ কথা
অবৈধ যৌ*ন ক্ষুধা মেটানোর দায় শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির নিজের ওপরই বর্তায়। সমাজ খারাপ হতে পারে, পরিবেশ কঠিন হতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই হারামকে হালাল বানানো যায় না।
মুমিনের পরিচয় হলো—সে নিজের প্রবৃত্তির দাস নয়; বরং আল্লাহর বিধানের অনুসারী।
মনে রাখুন:
“ইচ্ছা পাপ নয়, কিন্তু সেই ইচ্ছাকে হারাম পথে বাস্তবায়ন করাই পাপ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে নিজের নফসকে সংযত রাখে, তার জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।”